লাউচাপড়া পিকনিক স্পট

ঠিকানা:  বকশীগঞ্জ, জামালপুর

পাহাড়ের মাঝে অরণ্য ঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবকাশ যাপন কেন্দ্র লাউ চাপড়া পিকনিক স্পট । জামালপুর জেলার সীমান্ত ঘেষা উপজেলা বকশীগঞ্জে অবস্থিত এই পর্যটন স্থানটি। পাহাড়, অরণ্য, লেক সব মিলিয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে পাহাড়ের মাঝে পথ চলতে চোখে পড়বে নাম না জানা নানা বুনো ফুল। জারুল, গর্জন, একাশিয়া, মেহগনি সহ নানা প্রজাতির বনজ  বৃক্ষ। ফলজ বৃক্ষও রয়েছে প্রচুর।  হলুদিয়া, দোয়েল, শালিক, কালিম, কাঠ ঠোকরা সহ নানা প্রজাতির দেখা মিলবে এখানে। পাখির কুহু কুহু সুর মন একেবারে শান্ত করে দেবে।
তবে কোন বন্যপ্রানী এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। মাঝে মাঝে মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে নেমে আসে বুনো হাতি। লেকের উপর সুদৃশ্য টাওয়ার রয়েছে লেকের সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য। পানির উপর দাঁড়িয়ে লেকের পানিতে প্রতিবিম্ব দেখা যায়। শান্ত ¯িœগ্ধ জলরাশি ভাল লাগার এক অনুভূতি ছড়িয়ে দেবে মনে। কিছু ভাস্কর্যও রয়েছে লেকে। লেকের ধারে গাছের গোড়া পাকা বেঞ্চি বানানো হয়েছে বিশ্রামের জন্য।  পিকনিক পার্টির জন্য রান্নার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই সাথে এক সাথে খাওয়া, বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম করা এসবের আয়োজন করা যায় লেকের উত্তর প্রান্তে। লেকের পূর্বপাড়ে রয়েছে রেস্ট হাউজ। এখানের মূল আকর্ষণ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। প্রায় দেড়শ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর আরও ষাট ফুট উঁচু করে বানানো হয়েছে টাওয়ারটি। টাওয়ারে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে চোখে পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ অরণ্য। গ্রীষ্মকালে ভাল করে তাকালে চোখে পড়বে মেঘালয়ের উঁচু পর্বত শ্রেণী। প্রথমে মনে হতে পারে আকাশের গায়ে মেঘের সারি, ভাল করে নজর দিলে তখন বিষয়টা স্পষ্ট হবে। শীতকালে কুয়াশা থাকলে পর্বত শ্রেণী দেখা যায় না। পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠার জন্য রয়েছে বেশ কয়েক স্তরের সিঁড়ি। 
স্পটের একেবারে কাছে রয়েছে রাবার বাগান। মজার ব্যাপার হচ্ছে রাবার বাগান পড়েছে শেরপুরের শ্রীবর্দী থানায়। অর্থাৎ এই স্পটটি একেবারে শেরপুর সীমান্তের কাছে।
দোলনা, স্লিপার সহ কয়েকটি রাইড রয়েছে শিশুদের জন্য। শিশুপার্কটি আরও সুন্দর করার সুযোগ রয়েছে। গাড়ী বা মোটর সাইকেল জন্য রয়েছে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। পার্কে জন প্রতি প্রবেশ মূল্য মাত্র দশ টাকা। এখানে খাওয়া দাওয়ার জন্য স্পটের ভেতরে হোটেল রয়েছে। বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউজ রয়েছে।তবে তাতে থাকতে হলে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। আর রাতে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই। অবশ্য বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠা পাশের বনফুল রিসর্টে রাতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। 
জামালপুর জেলায় অবস্থিত হলেও শেরপুর সদর থেকেই এর অবস্থান অনেক নিকটে। যোগাযোগ ব্যবস্থা শেরপুর দিয়েই ভাল। শেরপুর জেলা সদর থেকে প্রায় তের কিলোমিটার দূরে শ্রীবর্দী উপজেলা। সিএনজি অটোরিক্সায় সহজেই যাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে কর্ণঝোড়া বাজার। এখানেও অটোরিক্সায় যাওয়া যায়। কর্ণঝোড়া বাজার থেকে ভ্যান বা রিক্সায় করে পার্কের গেটে যাওয়া যায়। 

  প্রবন্ধ শ্রেণী ঃ দর্শনীয় স্থান